ব্রেকিং নিউজ

বিএনপির প্রার্থী পিতাকে ভোট না দেয়ার অনুরোধ সন্তানের

বিএনপির মনোনয়নের চিঠি পাওয়া মনিরুল ইসলাম ইউসুফকে ভোট না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারই ছেলে নিয়াজ মোরশেদ এলিট। নিজের ফেসবুকে পেইজে আপলোড করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি তার বাবাকে ভোট না দেওয়ার এই অনুরোধ জানান। মনিরুল ইসলাম ইউসুফ চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে মনোনয়ন চিঠি পেয়েছেন।

রাজনীতিতে নিয়াজ মোরশেদ এলিট আওয়ামী লীগের মতাদর্শে বিশ্বাসী। তরুণ এই ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদে রয়েছেন। অন্যদিকে তার বাবা বড় তাকিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ইউছুফ কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতির পদে রয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় নিয়াজ মোরশেদ এলিট বলেন, ‘আমি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। কিছু কথা বলার জন্য আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আমার বাবা মনিরুল ইসলাম ইউসুফ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন। আমি তার একমাত্র ছেলে হিসেবে আপনাদেরকে বলছি, আমার বাবাকে আপনারা ভোট দেবেন না। আমি আবারও বলছি, আপনারা আমার বাবাকে ভোট দেবেন না।’

নিয়াজ মোরশেদ এলিট এই ভিডিওতে বলেন, ‘ আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এ জীবনটা পার করেছি। বিএনপির মতো একটি সর্বহারা দল, বিএনপি-জামায়াত জোটের মতো জঙ্গি এবং মানুষ পোড়ানোর যে একটা জোট, সে জোটে আমার বাবার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধা রিপ্রেজেন্ট করছে এটা আমার নিজের কাছে খুব লজ্জা অনুভূত হচ্ছে।’

ওই ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটি জিনিস বলতে চাই, শুধু লন্ডন কানেকশন থাকলে, লন্ডনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলে যে নমিনেশন পাওয়া যায় এটি একটি উদাহরণ। চট্টগ্রাম-১ এর মিরসরাইয়ের জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা বিএনপি-জামায়াতকে, ধানের শীষকে এবং আমার বাবাকে বর্জন করুন এবং মিরসরাইতে নৌকার মনোনীত প্রার্থীকে জয়যুক্ত করুন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ পুনরুজ্জীবিত করতে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। আমরা চাই এ দল, এ জোট যেন বাংলাদেশের কোনও জায়গায় রিপ্রেজেন্ট করতে না পারে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তা দেওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে নিয়াজ মোরশেদ এলিট বলেন, `আমি আমার আদর্শের জায়গা থেকে এই কাজটি করেছি। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে বড় হয়েছি। এই জায়গায় আমার বাবা ছাড়া অন্য কেউ থাকলেও আমি একই বার্তা পাঠাতাম। আমার বাবার জন্য আমি আমার রাজনৈতিক আদর্শ বদল করিনি। এই ভিডিও বার্তা দেওয়ার পর অনেকেই সেটা ইতিবাচক এবং নেতিবাচক হিসেবে নিচ্ছে। এতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি আমার আদর্শের জায়গা থেকে এটি করেছি।`

এদিকে এই ভিডিও আপলোডের পর এটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ১২ ঘণ্টায় ভিডিওটি দেখেছেন ৩ লাখ ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। শেয়ার করেছেন ১৩ হাজার জন, ইতিবাচক-নেতিবাচক মিলে মন্তব্য করেছেন দুই হাজারের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী।

About editor

Leave a Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com