ব্রেকিং নিউজ

দন্ডিতরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না : আদেশ আপিলেও বহাল

যশোর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার দন্ড স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের ওপর চেম্বার কোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ বিষয়ে উভয়পক্ষে শুনানি করে চেম্বার কোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ চলমান রাখে। আদালত আদেশে বলেন, “স্ট্যা টু কন্টিনিউ”।
এর আগে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে নিম্ন আদালতের দেয়া ছয় বছরের সাজা ও দন্ড গত বৃহস্পতিবার ২৯ নভেম্বর স্থগিত করেছিল হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ। রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আবেদনে চেম্বার কোর্ট গতকাল শনিবার তা স্থগিত করে আজ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ধার্য করে আদেশ দেয়। সে অনুযায়ি আজ শুনানি হয়।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বাসস’কে জানান, সাবিরা সুলতানার দন্ড স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করে চেম্বার কোর্টের দেয়া আদেশ আপিল বিভাগও বহাল রখেছে। সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবিরার অংশ নেয়ার সুযোগ থাকল না। ফলে দুই বছরের বেশি দন্ডিতদের নির্বাচন করার সূযোগ থাকল না।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান ও এডভোকেট এবিএম বায়েজিদ। সাবিরার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী , এম আমিনুল ইসলাম।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আজকের আদেশের ফলে সাবিরা সুলতানার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ আর থাকল না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, শুধু সাবিরা সুলতানাই নয়, এটা সংবিধানের বিধান। দুই বছরের বেশি দন্ডিত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় চলতি বছর ১২ জুলাই সাবিরা সুলতানাকে দুটি ধারায় তিন বছর করে মোট ৬ বছরের সাজা দেয় ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত। যশোর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সাবিরা ওই সাজা ও দন্ড স্থগিতের আবেদন করলে বিচারপতি মো. রইস উদ্দিনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার ২৯ নভেম্বর তা মঞ্জুর করে।
এর আগে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বলেছিল, দুই বছরের বেশি দন্ড ও সাজা হলে আপিল করেও কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ আদেশ আপিল বিভাগও বহাল রাখে। দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপির পাঁচ নেতার দন্ড ও সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেয়। ফলে আবেদনকারী পাঁচ বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মসিউর রহমান ও মো. আবদুল ওহাবের নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে বলে মত দিয়েছিলেন দুদকের আইনজীবী।

About editor

Leave a Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com