ব্রেকিং নিউজ

প্রেম করার জন্য ‘ডেটিং লিভ’ দিচ্ছে একাধিক সংস্থা

প্রেম করার জন্য ছুটি মিলবে৷ অবাক হবেন না এমনটাি কিন্তু হচ্ছে। কর্মীদের প্রেম করার জন্যেও দেওয়া হচ্ছে ছুটি। কোনও বিশেষ একটি সংস্থা নয়। এই ধরনের ছুটির রেওয়াজ চালু করেছে একাধিক সংস্থা

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, চিনের পূর্বাঞ্চলের হাংঝুর দুটি কোম্পানি তাদের কর্মচারীদের এই অতিরিক্ত ‘ডেটিং লিভ’ বা প্রেম করার ছুটি দিচ্ছে।

নতুন চন্দ্র বছর উৎযাপন করতে চিনে কোটি কোটি মানুষ কাজ থেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে কিছু সৌভাগ্যবান চাকুরীজীবী কর্মক্ষেত্র থেকে তাদের সাত দিনের নিয়মিত ছুটির সঙ্গে বাড়তি আট দিনের ছুটি পাচ্ছেন। তা দেওয়া হচ্ছে মাত্র তিরিশের কোঠার অবিবাহিত নারীদের জন্য। কারণ তারা যেন তাদের জীবন সঙ্গী খুঁজে নিতে পারেন।

যদিও এর আগে খবর হয়েছিল, ঐ শহরেই অবিবাহিত স্কুল শিক্ষিকাদেরও একই ধরনের ‘লাভ লিভ’ দেওয়া হচ্ছিল।চিনে কোনও নারীর বয়স তিরিশের কাছাকাছি চলে আসার পরও যদি তিনি অবিবাহিত থাকেন, তখন তাদের তাচ্ছিল্য করে ডাকা হয় ‘শেং নু’ অর্থাৎ ‘বাতিল’ কিংবা ‘বাদপড়া মেয়ে’ বলে।

এদিকে চিনে এখন অনেক মেয়েই যেহেতু তাদের কেরিয়ারের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন, তাই এরকম পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন অনেকেই। তাদের সমাজে এখনও মেয়েদের ওপর চাপ থাকে বিয়ে করার জন্য। অন্যদিকে চিনে যেভাবে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা কমছে এবং বয়োবৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তা নিয়ে সরকার ইদানিং খুবই উদ্বিগ্ন।

এক সময় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পথে যেতে হয়েছিল চিনকে৷ কিন্তু আবার বহু বছর তেমন পথে হেঁটে ২০১৫ সালে চিন তার এক সন্তান নীতি পরিত্যাগ করে। কারণ সেখানে জন্মহার কমছে। এদিকে ২০১৩ সালের পর থেকে প্রতি বছর বিয়ের হারও কমছে। দেখা গিয়েছে, ২০১৮ সালে চিনে দেড় কোটির বেশি শিশু জন্ম নেয়। যা আগের বছরের তুলনায় বিশ লাখ কম।

চিনের জনসংখ্যায় নারী-পুরুষের অনুপাতেও বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, কারণ সেখানে সরকারি নীতির জন্য পরিবারে ছেলে শিশু নেওয়ার প্রবণতা ছিল। চিনে নারীর স্বল্পতা রয়েছে – সরকারি হিসেব অনুসারে এখন নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা তিন কোটি বেশি চিনে৷ সেক্ষেত্রে চিনের আকাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্স-এর অভিমত, দেশের জনসংখ্যা বর্তমানে যেখানে ১৪০ কোটি, তা আগামী ৫০ বছরে কমে দাঁড়াবে ১২০ কোটিতে। এভাবে জনসংখ্যা কমায় চিন্তা বেড়েছে চিনের সরকারের৷

শুধু জনসংখ্যা কমা নয়, প্রবীন মানুষের অনুপাত বাড়ছে, যারফলে চিনের সরকারী কোষাগার এবং সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে৷ ফলে জীবন সঙ্গী খুঁজে নেওয়াটা এখন চিনের সমাজিক তথা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আর সেকথা ভেবেই অবিবাহিত নারীদের যে অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হচ্ছে প্রেম করা বা জীবনসঙ্গী খোঁজার জন্য৷

এই প্রসঙ্গে হাংঝু সংচেন পারফর্মেন্স কোম্পানির মানবসম্পদ ম্যানেজার হুয়াং লেই-এর বক্তব্য, অনেক নারী কর্মীর বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ খুব কম। তাই নারী কর্মীদের বাড়তি ছুটি দেওয়ার হচ্ছে , যাতে তারা ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মেলামেশার জন্য আরও বেশি সময় দিতে পারে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, এই ‘ডেটিং লিভ’ পেয়ে কর্মীরাও বেশ খুশি। যদিও এমন পরীক্ষা নিরীক্ষা বা নীতির ফলে কতটা কাজের কাজ করবে তা নিয়ে তাঁর মনেও প্রশ্ন রয়েছে। তবে চেষ্টা করে দেখা হচ্ছে৷

About editor

Leave a Reply

Your email address will not be published.

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com